দেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি আয়ে নতুন মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে সাড়ে বারো শতাংশ বেশি, যা লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি মানসম্মত পোশাকের চাহিদা বাড়াই এই প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ। ঐতিহ্যবাহী ইউরোপীয় বাজারের পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি বাড়ছে দ্রুতগতিতে। নতুন ধারার মানসম্মত পোশাক তৈরিতে বাংলাদেশি কারখানার দক্ষতা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা বাড়িয়েছে।
বিজিএমইএর নেতৃত্ব জানিয়েছে, এখন চ্যালেঞ্জ হলো এই গতি ধরে রাখা। গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থবিরতা ও ব্যাংকঋণের সুদহার বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো চাপে রয়েছে। ম্যান-মেশিন সমন্বয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি পাইকারি বিনিয়োগ সহজ করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পোশাক খাতের সাফল্য সত্ত্বেও রপ্তানি বহুমুখীকরণ জরুরি। ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে নজর দিলে বৈশ্বিক বাজারের কোনো ধাক্কায় দেশের বৈদেশিক আয় সহজে বিপর্যস্ত হবে না।