পদ্মা সেতু চালুর তিন বছর পূর্ণ হলো দক্ষিণাঞ্চলের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের। এক সময়ের অবহেলিত, যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এই অঞ্চলটি আজ দেশের অন্যতম প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের এই ৬.১৫ কিলোমিটার দ্বৈত-স্তর সেতু শুধু যোগাযোগের দূরত্বই কমায়নি, বদলে দিয়েছে অর্ধ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার গতিপথ।
সেতু চালুর আগে ঢাকা থেকে খুলনা বা বরিশালে যেতে ফেরি ঘাঁটিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। মাঝে মাঝে সারারাত বসে থাকতে হতো গাড়িতে। এখন সেই সময় ঘণ্টায় গণনা হয়। যাত্রাসময় কমে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন খরচ প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্য এখন ঢাকার বাজারে পৌঁছাতে পারছে সার্বক্ষণিক, ফলে কৃষকের ঘরে ঘরে ফিরছে লাভ।
সরকারের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সেতু-সংলগ্ন জেলাগুলোতে গড় আয় গত তিন বছরে প্রায় ২২ শতাংশ বেড়েছে। ভূমির দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। পর্যটন শিল্পে এসেছে অভাবনীয় সম্প্রসারণ—কুয়াকাটা, কুঠিবাড়ি আর সুন্দরবনের নৌ-পর্যটনে এখন ছুটে আসছে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ঢল। স্থানীয় হোটেল ও রেস্টোরেন্ট শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে হাজারো মানুষের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদ্মা সেতুর সুফল পুরোপুরি পেতে হলে এখন দরকার সমন্বিত আঞ্চলিক পরিকল্পনা। খাল খনন, নদী ব্যবস্থাপনা আর শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে হবে। যদি তা হয়, আগামী এক দশকে দক্ষিণাঞ্চল হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান ইঞ্জিন।